চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে সাতক্ষীরায় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে যখন অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, তখন পেঁয়াজের এই দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে। মশলা জাতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কমায় বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলো এতে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। তবে হঠাৎ করে দর পতনে লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী।
গত মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শুরুতে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ পাইকারিতে প্রতি কেজি ৪৮ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৩০ থেকে ৩২ টাকায় নেমে এসেছে। মুড়িকাটা মোটা জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে ২৮ টাকাও বিক্রি হচ্ছে। তবে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে জানান পাইকারি বিক্রেতারা।
সুলতানপুর বড়বাজারে বাজার করতে আসা পলাশপোল এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পবিত্র রমজান শুরুর আগে থেকেই বাজারে হঠাৎ করে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বেড়ে যায়। এসময় পাইকারিতে ৩০ টাকা দরের পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ৪৮-৫০ টাকায়। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারগুলো চাপে পড়েছিল। বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সংসারের বাজেট ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক সময় কম পরিমাণে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে কিংবা অন্যান্য পণ্যের পরিমাণ কমাতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমে আসায় আমার মত সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কারণ রোজার সময় পেঁয়াজ সবার একটু বেশি লাগে। বাজারে এ ধরনের মূল্যহ্রাস অব্যাহত থাকলে রমজান মাসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।’
খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনি ব্যস্ততার কারণে অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছিলেন। একই সময়ে রমজান শুরু হওয়ায় বাড়তি চাহিদার সুযোগে মোকাম পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি পায়। তবে বর্তমানে কৃষকরা বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ উত্তোলন করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমতে শুরু করেছে।’
সুলতানপুর বড়বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা তাপস ঘোষ জানান, ‘রোজা শুরুর কয়েকদিন পর থেকে পেঁয়াজের ক্রেতা কমে যায়। এরপর হঠাৎ করে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও পড়ে গেছে। কেজিতে ১৮/২০ টাকা নেই। সকালে দুই বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করে আমার ১৪১০ টাকা লোকসান হয়েছে। দামের এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে ঘরের বাকি পেঁয়াজ বিক্রি করলে দুই লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে।’
সুলতানপুর বড়বাজারের মেসার্স মোল্যা ভাণ্ডারের মালিক আব্দুল আজিজ মোল্যা জানান, রমজানে বেশি দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক ক্ষেতের পেঁয়াজ উঠানো বন্ধ করে দেয়। ফলে রমজান শুরুর আগে চাহিদা বাড়ার সাথে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও বেড়ে যায়। এখন বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত। সে তুলনায় ক্রেতা অপেক্ষাকৃত কম। যে কারণে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৮/২০ টাকা কমেছে। এতে করে আগে যে-সব ব্যবসায়ীর বেশি পেঁয়াজ কেনা ছিল তারা এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন। তবে দাম কমায় ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান তিনি।
খুলনা গেজেট/এনএম

